সোমবার, ১৭ জুলাই, ২০১৭

সুবিধাবঞ্চিত জনগোস্টীর বেদনাদায়ক গল্প।

'পশ্চাদপদ; সুবিধাবঞ্চিত
জনগোষ্ঠীর বেদনাদায়ক
গল্প'
মেজর জেনারেল আ ল ম ফজলুর
রহমান (অব.):
ණ☛ পশ্চাদপদ মানুষদের কথা না বলে
গল্প কেন বলছি তার একটা কৈফিয়ত
দেয়া প্রয়োজন মনেকরি। আজকে
যাদের আমরা পশ্চাদপদ বলি তাদের
পশ্চাদপদতা চলমান বা হঠাৎ কোনো
বিষয় নয়। তাদের পশ্চাদকদতার
পিছনে আছে সুদীর্ঘ ইতিহাস। এই
ইতিহাসের মাঝে লুকিয়ে রয়েছে
সমাজ এবং সুবিধাবঞ্চিত এই
জনগোষ্ঠীর বেদনাদায়ক গল্প।
ණ☛ দেশে দেশে অঞ্চলে অঞ্চলে
এরা একই বঞ্চনার শিকার। কোথাও
আমরা এদের দেখি একই দেশে
বৃহত্তর সমাজ থেকে আলাদা
সমাজে বাস করতে। কোথাও এদের
আলাদা করে রাখা হয়েছে। বলা
হচ্ছে এরা ইন্ডিজেনাস পিপলস।
এদের সমাজ বিচ্ছিন্নতাকে
অস্হায়ী রুপ দিতে জাতিসংঘে,
আইএলওতে রেজ্যুলেশন পাশ করেছে
যাতে এরা আর কোনোদিনও বৃহত্তর
সভ্য সমাজের অংশ না হতে পারে।
কোথাও ইন্ডিজেনাস পিপলসদের
উপরে জাতিসংঘের পাশকৃত
রেজ্যুলেশনের প্রতিপালনের জন্য
দুর্বল দেশগুলোর উপরে সুদূর প্রসারিত
উদ্দেশ্য সাধনের জন্য চাপ প্রয়োগ
করা হচ্ছে যাতে কোনো এক সময় এই
পশ্চাদপদ মানুষদের ব্যবহার করে এই
দুর্বল দেশগুলির ভৌগলিক সীমানায়
পরিবর্তন এনে জিওস্ট্রাটেজিক
শুবিধা অর্জন সম্ভব হয়।
ණ☛ তার আগে লোভলালসা এবং ঘুষ
দুর্নীতি করে এই সব পশ্চাদপদ
মানুষদের ধর্মান্তরিত করা হয়। পুর্ব
তিমির এবং দক্ষিণ সুদান নামে দুটি
খৃষ্টান অধ্যুষিত নতুন রাষ্ট্রের জন্ম
এর পোষকতা করে। পুর্ব তিমুরকে
সৃষ্টির প্রয়োজন পড়ে মুসলিম প্রধান
উদিয়মান সামরিক শক্তি
ইন্দোনেশিয়ার সম্ভাব্য সামরিক
প্রভাব থেকে অষ্ট্রেলিয়াকে
নিরাপদ করার জন্য। এখন পুর্ব তিমুর
ইন্দোনেশিয়া এবং অষ্ট্রেলিয়ার
মধ্যে বাফার ষ্টেট হিসাবে কাজ
করছে। ওদিকে মুসলিম প্রধান সুদান
কে দুর্বল করতে দক্ষিণ সুদানে
খৃষ্টান অধ্যুষিত দক্ষিণ সুদানকে
স্বাধীন করা হয়েছে।
ණ☛ চোখ খুলেলে দেখবেন
বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম
এবং ভারতের সাত রাজ্যে পশ্চিমা
বিশ্বের আদিবাসীদের রক্ষার
নামে তাদের মাষ্টার্স প্লানের
প্রথম অংশ সহজ সরল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির
মানুষদের খৃষ্টকরণের কাজ
অতিসন্তপর্ণে পরিকল্পনা মাফিক
এগিয়ে চলেছে। এখন সময় বলবে
ভবিষ্যতের পানি কোথায় গোড়ায়?
ණ☛ এতো গেল পশ্চিমা বিশ্বের
পশ্চাদপদ মানুষদের অশুভ উদ্দেশ্যে
ব্যবহারের ইতিকথা। এবার দেখবো
এই সব পশ্চাদপদ মানুষরা কালে
কালে যুগে যুগে কেন পশ্চাদপদ
থেকেছে বা হালনাগাদেও আছে?
এর কারণ বহুবিধ। তার আগে দেখতে
চাই এই পশ্চাদপদ জনগোষ্ঠীর মানুষ
কারা?
১। এদের মধ্যে আছে ধাঙ্গর বা
মেথর সম্প্রদায়। যাদের কাজ অধুনা
অতীতে ছিলো মানুষের মল
পরিষ্কার করা। এখন মল পরিষ্কারের
কাজ তেমন না করলেও পরিছন্নতার
কাজ করে যার মধ্যে সৌচাগার
পরিষ্কার করার কাজও আছে।
২। ভারতের অষ্পৃশ্য দলিতরা। এদের
কাজ চন্ডালের কাজ যারা শশ্মানে
মরা পড়ানো এবং মরা পশু
অপসারণের কাজ করে। শব দাহ এখন
আধুনিক চুল্লিতে হয় ফলে এখানে
দলিতের প্রয়োজন থাকলেও থাকতে
পারে।
৩। চা বাগানের শ্রমিক। এরা
ব্রিটিশদের সৃষ্টি। ভারত এবং
বাংলাদেশের মানুষ চা পান
করতোনা। ব্রিটিশরা সম্ভবতঃ
আসামের পাহাড় থেকে চা গাছ এনে
আধা পাহাড়ী আধা সমতলে রোপণ
করে চা শিল্পের প্রসার ঘটনায়
ভারত, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ এবং
বার্মা তে। এই শিল্পে কাজ করতে
মালপাহাড়ীদের সম্ভবতঃ ভারতের
বিহার থেকে চা বাগানে কাজের
জন্য আনা হয়। সেই থেকে এদের নতুন
অধপতিত জীবন যাত্রার শুরু।
মালপাহাড়ী হিসাবে এই
চাশ্রমিকদের পুর্ব পুরুষদের ইতিহাস
কোনো কালেও সমৃদ্ধ ছিল না।
ইতিহাস তাই বলে।
৪। ভারতে শুদ্র সম্প্রদায়। এদের
কাজ কৃষি কর্ম, ধিবর বা জেলে এবং
কুমারের কাজ করা। এখন কৃষিতে
এবং মৎস্য শিকারে বিভিন্ন ধর্ম
এবং শ্রেণি পেশার মানুষের আগমন
ঘটনায় এই শুদ্ররা এখন সম্ভবতঃ
কুমরের কাজ করে কোনো রকমে
জীবন ধারন করে টিকে আছে।
৫। শাওতাল সম্প্রদায়। এরা দ্রাবিড়
নৃগোষ্ঠির মানুষ। এরা
অষ্ট্রমেলনেশিয়আন। বাঙালির পরে
ভারত ও বাংলাদেশে এরাই
প্রাচীন জনসম্প্রদায়। এদের অন্য জন
বিভাজনের মধ্যে আছে ভিল, কোল,
মুন্ডা, শবর শবরী প্রভৃতি। অতীতে
এরা ছিল শিকার জীবি অরণ্যচারী।
বর্তমানেও এরা পশ্চাদপদ
জনগোষ্ঠির অন্তর্ভুক্ত।
ණ☛ আরো অনেক পশ্চাদপদ মানুষ
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আছে
তাদের সম্পর্কে আমরা জানি যেমন
কালাহারি মরুভূমির শিকার জীবি
বুশম্যান, আমাজন এর উপজাতির
মানুষ, নিগ্রোপ্রতিম আফ্রিকার
মানুষ। ইন্দোনেশিয়া ও
মালয়েশিয়ার জঙ্গলে বসবাসরত
বিভিন্ন উপজাতির মানুষেরা। তবে
অনেক সম্প্রদায় আছে যার সম্পর্কে
এখনও জানা সম্ভব হয়নি।
এই মানুষেরা আমার আপনার মতো
আদম সন্তান। এরা পশ্চাদপদ থেকে
গেছে এবং আছে তার অনেক কারণ
আছেঃ
১। সভ্যতার বিকাশের সময় কিছু
জনগোষ্ঠী সভ্যতার বিকাশের সাথে
নিজেকে সম্পৃক্ত করেনি। ফলে
তারা পশ্চাদপদ থেকে যায়।
২। সভ্য ও উন্নত জাতি বিজিত
জাতির মানুষদের দাসে পরিনত
করার ফলে কিছু মানুষ পশ্চাদপদতার
নিগড়ে আবদ্ধ হয়।
৩। অরণ্যচারী শিকার জীবি
মানুষরা ভুমিজ উৎপাদনমুখী না
হবার ফলে পশ্চাদপদ থেকে যায়।
কারণ তারা জীবন ও জীবিকার
বহুমুখী নিরীক্ষার পথে হাঁটতে
চায়নি। এই জীবন জীবিকার তাড়না
মানুষকে যেমন সংগ্রামী করেছিলো
তেমনি উদ্বুদ্ধ করেছে রাজ্য
প্রতিষ্ঠার কাজে।
৪। উন্নত ও শক্তিশালী জাতি
বিজিত জনগনের অধিকার হরন করে
শুধু যে তাদের দাসে পরিনত
করেছিল তানয় তাদের নিজেদের
আরাম আয়েশ ও উন্নত জীবনের
প্রয়োজনে কাজ করার জন্য এই
দাসদের ধর্মীয় ভাবে পেশা নির্ভর
শ্রেণীবিন্যাশ নিশ্চিত করে কাষ্ট
প্রথা, বর্ণ প্রথার উম্মেষ ঘটিয়ে
ধর্মের আবরণে আবদ্ধ করে তাদের
পশ্চাদপদতার নিগড়ে বন্দি করে
ফেলে।
৫। আজ যারা এই সব ঐতিহাসিক
অন্যায়ের শিকার তারা আজ এমন এক
কঠোর মনোবৈল্যের নিমজ্জিত
যেখান থেকে তারা নিজেরাও
মুক্তি চায় বলে মনে হয়না। উদাহরন
হিসাবে ভারতের দলিতদের নেতা
বিআর আম্বেদকার আজীবন চেষ্টা
করেও দলিতদের পরিবর্তনের পথে
আনতে ব্যার্থ হয়ে নিজে ক্ষোভে
দুঃখে শেষ জীবনে বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহন
করেন।
আমরা অতীত ও বর্তমান যুগকে ৩
ভাগে ভাগ করতে পারিঃ
১। মোজেজার যুগ বা অতিমানবিক
ঘটনার যুগ। যেমন হযরত ইব্রাহিম
আঃ এর নমরুদের অগ্নিকুন্ডে নিরাপদ
থাকার ঘটনা। হযরত মুসা আঃ এর
লাঠির আঘাতে সমুদ্র দ্বীখন্ডিত
হওয়া। হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর
মেরাজ গমনের ঘটনা। এই সব ঘটনার
সঠিক বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ সম্ভব
বলে মনে হয়না।
২। সাহিত্য ও উন্নত ভাষার যুগ। এই
যুগের টক্কর (চ্যালেঞ্জ) হিসাবে
কোরআনুল হাকিম আল্লাহ অবতীর্ণ
করে মানুষকে বলেন এই কোরআনের
একটি সুরার মতো কোনো সুরা
তোমাদের পক্ষে রচনা করা সম্ভব
নয়। কোরআনে দেওয়া আল্লাহর এই
টক্কর কিয়ামতের দিন পর্যন্ত
বিদ্যমান থাকবে।
৩। বর্তমান যুগ উন্নত বিজ্ঞান ও
প্রযুক্তির যুগ। এই যুগে যারাই বিজ্ঞন
এবং প্রযুক্তিকে আঁকড়ে ধরবেনা
তারাই আজ থেকে শত বর্ষ পরে
পশ্চাদপদতার নিগড়ে নিমজ্জিত
হবে। অন্ততঃ অতীত ইতিহাস
আলোচনায় তাই জানা যায়। এর
পরেও আমরা দেখছি অনেক মানুষ
কেউবা ধর্মের নামে কেউবা
কুসংস্কারের কারণে বিজ্ঞান ও
প্রযুক্তি বিমুখ থাকছেন। এর সঠিক
ব্যাখ্যা আমার জানা নাই।
ණ☛ উপরে কোনো জনগোষ্ঠীর
পশ্চাদপদ থাকার বা জোর করে
পশ্চাদপদ করার কিছু কারণ আলোচনা
করলাম। আমি নিজে সমাজ
বিজ্ঞানী নই তাই এই দাবি আমি
করিনা আমি যা বলেছি তাই ঠিক।
আমি তা বলিনা। এর বাইরেও অনেক
কারণ আছে যা মানুষকে পশ্চাদপদ
করে। আমি রাজনীতি, অর্থনৈতিক
বিভাজন নিয়ে আলোচনা করিনি।
লেখক: কলামিস্ট ও প্রাক্তন
মহাপরিচালক বিডিআর।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

সূরায়ে ফাতিহা!

সূরা আল ফাতিহার বাংলা ও ইংরেজি অর্থ ইসলাম ডেস্ক: সূরা ফাতিহা (মক্কায় অবতীর্ণ), এর আয়াত সংখ্যা 7 ﺑِﺴْﻢِ ﺍﻟﻠّﻪِ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤـَﻦِ ﺍﻟﺮَّﺣِﻴﻢ...