সংবাদ >> রাজনীতি
বিধিতেই বন্দি বিএনপিসহ ২৮ রাজনৈতিক দল
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (৯০ এইচ) (১) দফায় রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিলের নির্দেশনা রয়েছে। ওই দফার (ই) উপ-দফায় বলা হয়েছে, নিবন্ধিত কোনো রাজনৈতিক দল পর পর দু’বার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে নিবন্ধন বাতিল হবে। তবে (৯০ এইচ) (২) দফায় বলা হয়েছে, শর্ত থাকে যে দফা (১) এর (সি), (ডি) ও (ই) এর অধীন নিবন্ধন বাতিলের পূর্বে নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলকে শুনানির সুযোগ প্রদান করবে।
তবে দশম সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলসহ (বিএনপি) ২৮টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নির্বাচন বর্জন করে। এগুলো হলো বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এমএল), কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি, জাকের পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, গণফোরাম, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বিএমএল এবং বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট।
ইসি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দশদ সংসদ নির্বাচন বর্জন করা এসব দলগুলোর যে কেউ আগামী নির্বাচন বর্জন করলে নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে শুনানিরও প্রয়োজন পড়বে না। নির্বাচন কমিশন চাইলে নির্বাচনের পর যে কোনো সময় তাদের নিবন্ধন বাতিল করে দিতে পারবে। নির্বাচন বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিএনপির মতো বড় দল আগামী নির্বাচনে অংশ না নিয়ে নিবন্ধন হারানোর মতো এমন ভুল করবে না। আর বিএনপি যদি নির্বাচনে যায় তবে অন্য দলগুলোও তাদের সঙ্গে নির্বাচনে যাবে।
এ বিষয়ে সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আইনে আছে পরপর দু’বার জাতীয় নির্বাচনে অংশ না নিলে নিবন্ধন বাতিল হবে। এ বিষয়ে শুনানিরও প্রয়োজন হবে না। নির্বাচনের পর তাদের নিবন্ধন সাংবিধানিকভাবেই বাতিল হয়ে যাবে। তাই রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত নির্বাচন বর্জন না করে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে ইসি ও সরকারের সঙ্গে বোঝাপড়া করা।
মানবকণ্ঠ
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন