একজন এরদুগানের দালাল হওয়ার গল্প
রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান
একজন এরদুগানের দালাল হওয়ার গল্প
এরদোগান, নামটার অর্থ আমি জানিনা কিন্তু শোনলে কেমন যেন হৃদয়ে ভালবাসার
ছোঁয়া পাই। কেন এমন হয় তাও জানিনা। এই ব্যাটা সমন্ধে প্রথম মনে হয় জানতে
পারি ২০০৬ এ। পত্রিকা মারফত তুরস্কের কোন সংবাদকে কেন্দ্র করেই জানা।
,
সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে আরো হালকা পাতলা জানতে পারি। ভালো করে জানতে পারি ২০০৯ সালের শেষে যখন ঢাবির টিএসসি ক্যাফের নেট জগতের সাথে সখ্যতা গড়ে উঠে। মতামত পক্ষে বিপক্ষে উভয়টাই পড়তে থাকি। কারো মতে যেমন এরদোগান ছিল ইসলামের কাণ্ডারি আবার অন্যদের মতে তিনি ইহুদী নাসারাদের খাস দালাল। কারণ হিসেবে বিপক্ষ দল বহু উপমা পেশ করতে থাকে।
,
ব্যাটার মুখে দাড়ি নাই, গতরে সুন্নত নাই, ন্যাটোর অন্যতম সদস্য, ইইউ তে ঢোকার প্রচেষ্টা, ইসরাইল আমেরিকার সাথে সখ্যতা, দেশে শরীয়া আইন চালুর বালাই নাই ইত্যাদি বহুবিধ প্রমাণে যথেষ্ট ভাবেই প্রমাণিত হয় তিনি একজন ইহুদি নাসারার দালাল। সুতরাং তাকে মুসলিমদের লিডারতো দূরে থাক মুসলিম বলা যায় কিনা তাই যথেষ্ট ইজতিহাদের বিষয়।
,
এই বিষয়গুলোকে সামনে রেখে খুজ দি সার্চ শুরু করলাম। সেই উসমানী খিলাফতের পতন যুগ থেকে একে একে এগিয়ে আসলাম বর্তমান পর্যন্ত।
,
শুধু এরদোগান না দেখলাম একশ্রেণীর দালালদের গল্প। সাইয়্যেদ বদিউজ্জামান নুসরী দিয়ে শুরু। একজন মানুষ কি করে শুধু মানুষকে ইসলামের পথে নিষিদ্ধ ঘোষিত ইসলামের আহবান জানানোর জন্য প্রান্তর কে প্রান্তর চষে ফিরেছেন। প্রেস নিষিদ্ধ তাই নিজের লেখা বইগুলোকে কপি করছেন আবার ছাত্রদের দিয়ে কপি করিয়েছেন তা জনতার মাঝে প্রচার করেছেন। আহলে সালাফ ও তথাকথিত আলেমসমাজ এই লোকটাকেই যখন ইহুদি নাসারা বানিয়ে ছেড়েছে এরদোগানতো এর কিছুইনা সুতরাং সে দালাল হতেই পারে।
,
আসলো তুর্কি পিতা ও প্রাণপুরুষ কামাল আতাতুর্কের ইতিহাস। যিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন তুর্কি সীমায় পাহারা বসিয়েছি সুতরাং তুর্কী সীমায় আল্লাহর প্রবেশ নিষিদ্ধ। এই মহান নেতার বিরুদ্ধে ফতোয়ার কিতাবগুলো অজানা কারণে নিরব হয়েই রইল।
,
আজান প্রথমে নিষিদ্ধ হলো পরে তুর্কি ভাষায় জায়েজ হলো কিন্তু মাইক ব্যবহার নিষিদ্ধ রয়েই গেল। ইসলামী স্কুল বন্ধ, মসজিদে মসজিদে তালা, স্কার্ফ পড়লে বেত্রাঘাত ও জরিমানা, আরবি নাম নিষিদ্ধ, এমনকি মহিলাদের ঢিলেঢালা পোশাকও নিষিদ্ধের তকমা পেল।
,
ভাষা থেকে আরবি বর্ণমালা উঠে গিয়ে রোমান হরফ আসলো, ভাষাবিদদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় তুর্কী ভাষা থেকে ছেঁকে ছেঁকে আরবি ও মুসলিমদের সাথে সম্পর্কিত সকল শব্দমালা বাদ দিয়ে শুদ্ধ তুর্কি ভাষার জন্মনিল। একে একে বহু ইসলামী ব্যক্তিকে রাষ্ট্রীয় আইন লঙ্গনের অভিযোগে কারাপ্রকোষ্ট, মৃত্যুদণ্ড, দেশান্তরি করা হল। কই তখনো কোন ফতুয়া শোনাই গেল না।
,
ইসলামী নাম হীন নিশানাহীন এমন এক তূর্কি জেনারেশন তৈরী হল নামাজতো দূরে অজু কেমনে করতে হয় তাই জানলোনা। এতে বাকশাল, টাকশাল, জাতশাল, মাতশাল, আইনের শাসন কোন প্রশ্নই উঠলোনা।
,
এতো বৈরী পরিবেশে আদনান মেন্দারেস এসে চেষ্টা করলেন ইসলামের জন্য কিছু করা যায় কিনা। কিন্তু কিছু করার আগেই ইহুদিদের দালাল বলে তকমা খেয়ে গেলেন। বাহ কি সুন্দর ইসলামী ফতোয়াবাজী।
,
শত বৈরিতার পরও শিক্ষাক্ষেত্রে নামমাত্র হলেও ইসলামের আগমন ঘটাতে পারলেন। সল্পপরিসরে নামাজের অনুমিত দিয়ে দিলেন। মানুষজন আবার ইসলাম মুখি হওয়ার সুযোগ পেল। কিন্তু যেই আরবিতে আজানের অনুমিত দিলেন সাথে সাথে দেশপ্রেমী সেনাবাহিনী তাকে সংবিধান লঙ্গনের অপরাধে চৌরাস্তার মোড়ে ঝুলিয়ে দিল। আহ আলেমসমাজ হাফ ছেড়ে বাচলো যাক অবশেষে ইহুদিদের দালালের অবসান হয়েছে তুর্কি সেনাদের ধন্যবাদ।
,
নাজিমুদ্দিন এরবাকান আসলেন প্রেক্ষাপটে। তিনিও আসিবা মাত্র দালাল হইয়া গেলেন। একের পর এক পার্টি নিষিদ্ধ, জেল জরিমানা, ইত্যাদি দিয়ে তাকে কোণঠাসা করে ফেলা হল। সব কিছুকে ছাপিয়ে ক্ষমতায় আসলেন ইসলামের জন্য কিছু করার সপ্ন দেখলেন আর দেখলেন সেনাবাহিনীর ক্যু।
,
শুধু একবার না বরং বারবার একই প্রেক্ষাপট রচিত হতে লাগলো যার সর্বশেষ ১৯৯৯ সালে ক্যু এর মাধ্যমে তাকে পদচ্যুত করা হল।
,
শিক্ষাদিক্ষায় ইসলাম নাই, সর্বস্থানে বানরের বংশধর শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে মসজিদে কে কবে নামাজ পড়েছে তাও ইতিহাস। সেই অবস্থায় একাকি এক তরুণ রুখে দাঁড়ালো। নাম তার আদনান উখতার (হারুন ইয়াহিয়া)। ডারউইনের নাতিপুতির সমগ্র রক্তচক্ষু এড়িয়ে ভার্সিটি ক্যাম্পাসে একাকি গাছের তলায় নামায আদায় করা ছেলেটিই দাবী করে বসলো ডারউইনের তথ্যভুল বরং সৃষ্টিজগতের অপার রহস্যভেদ একমাত্র কুর’আন দিতে পারে। একাকী এক ছাত্রের কাছে তুর্কী সকল শিক্ষক পরাস্ত হল। আন্তর্জাতিক সেমিনারে বাঘা বাঘা বিজ্ঞানিকেও তালগোল খাইয়ে ছেড়ে দিল তখন একমাত্র পথ গ্রেফতার ছাড়া আর কিই করা যায়?
,
তাতেও এ পাগলকে দমানো গেলনা বরং তুর্কি আইনে তার বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ গুরুতর না হওয়ায় কি করা যায়? প্রসিকিউটর দাবী করলো এ বদ্ধ পাগল। কিন্তু আদালতেতো প্রমাণ চাই তাই টানা তিন বছর একাকি মর্গে শিকল দিয়ে আবদ্ধ করে রাখা হল যেন এ পরিস্থিতিতে থাকতে থাকতে পাগল হয়ে যায়। কিন্তু বিধিবাম। পাগল প্রমাণ করতে ব্যর্থ এ সরকারকে সস্তি এনে দিল আলেমসমাজ।
,
ফতোয়া জারি হল, আদনান কুর’আন নিজের মত করে ব্যাখ্যা করেছে। আমাদের মত বিশ্লেষণ করেনি সুতরাং এ হারামি কোন দালাল না বরং আস্ত একটা কাফের। বাহ কি চমৎকার।
,
সময়ের আবর্তে তরুণ এরদোগানের উত্থান। এ তরুণ একসময় চেয়েছিলেন ভালো ফুটবলার হবেন। খেলতেনও ভালো কিন্তু বাবা বললেন আমি সপ্নদেখি তুমি জাতির কাণ্ডারি হবে।
,
বিশ্বফুটবলে যশ ক্ষেতিকে পায়ে ঠেলে শুরু হল নতুন পথচলা। টাকা ছাড়া সংসার চলে? তাই পথের পাশে শরবত বিক্রির পাশাপাশি ভবিষ্যতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের উত্থান।
,
জননেতা হিসেবে বিপুল ভোটে ইস্তাম্বুলের মেয়র হলেন। একদিকে সল্প বাজেট অন্যদিকে নানামুখী চাপ সামলিয়ে ইস্তানবুলকে বিশ্বের বুকে নবরূপে পরিচয় করিয়ে দিলেন। দেখিয়ে দিলেন বাজেট ফেক্টর না বরং দুর্নীতি না করাই ফেক্টর। বক্তিতা বিবৃতিতে স্পষ্ট ভাষায় বলে দিলেন সেকুলার আর ইসলাম একসাথে চলতে পারে না। আমি আমি সেকুলার নই আমি মুসলিম।
,
এ কথাযে মস্তবড় অপরাধ। ফলাফল, মেয়র সাহেবের চার বছরের জেল। তার কথাই ছিল-
” ‘মসজিদ আমাদের ক্যান্টনমেন্ট,
গম্বুজ আমাদের হেলমেট,
মিনার আমাদের বেয়নেট
এবং বিশ্বাসীরা আমাদের সৈনিক।”
,
অবশেষে ২০০১ সালে সাংবিধানিক এলার্জিমুক্ত এক দল গঠন করে নাম দিলেন। জাস্টিস এন্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একে পার্টি)। নির্বাচনে বিজয়ী হলেন আর মানুষের হৃদয় জয় করার এক অদম্য মিশনে নেমে পড়লেন। এ কাজ কি এতই সহজ?
মানুষ বুঝতে পারলো এ সব ইসলামের ঝলকানি তারা এ নূরের দিকে আকৃষ্ট হল কিন্তু তাতে মাথায় বাজ পড়লো ইসলামের দুশমনদের তার চেয়েও বড় বাজ পড়লো মুনাফিকদের।
,
গোলেন মুভমেন্ট ইসলামের নামে উত্থান হলেও কালক্রমে তাদের স্বরুপ প্রকাশ পেতে শুরু করে। বিশ্বব্যাপী তাদের তৈরী তুর্কি কালচারাল সেন্টারগুলোতে উঠতি বয়সের যুবতী নাচিয়ে তুর্কি কালচার প্রকাশ করে। বিশ্বাস না হলে ইউটিউব ঘাটতে পারেন।
,
তাদের ইসলামের নামে এই কাজ ও সেকুলারিজমের সাথে সখ্যতার দরূন এরদোগান বিরোধীতা করায় ২০০৯ থেকে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। গোলেন চক্রের কয়েকদফা ক্যু এর চক্রান্ত ভেস্তে যায়। যার সর্বশেষ ধাক্কা ছিল গতবছর।
,
ইসলামের শত্রুদের কাছে এরদোগান একজন ইসলামিস্ট হলেও ইসলামের ধ্বজাধারী আকাইম্মাদের কাছে এরদোগান ইহুদি নাসারাদের দালাল ছাড়া কিছুই না।
,
যে তুরস্কে আজান দেওয়া নিষিদ্ধ সেখানে এখন নামাজির অভাব নাই। ইসলামী স্কুলের পিছনে সরকারি ব্যায় প্রতি বছর বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আরবি ভাষা ফিরিয়ে আনছে।
নিষিদ্ধ হিজাব আজ সহজলভ্য।
মদের বার গুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে রাত্রিকালীন আইনের আওতায়।
প্রসিদ্ধ শহরে পতিতালয় নিষিদ্ধ।
কিছুদিন আগে দেখলাম কোন এক পরিচালক বলছেন নতুন তুর্কি আইনে মুভিতে অশ্লীলতা দূরে বরং যদি থাকে I want to sleep with you. তাহলে ঐ মুভির আর আলোর মুখ দেখার সম্ভাবনা নাই।
বিশ্বের তাবত মজলুম জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সোচ্চার কন্ঠ।
বিশ্বের সর্বোপরি সাহায্যের সিংহভাগ তুর্কি।
হামাস ও নির্যাতিত সিরিয়া বাসির নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল।
এত কিছুর পরও বেচারা একটা দালাল।
,
অথচ যারা আলেম সেজে আজ ফতোয়ার ফুলঝুরি ছোটাচ্ছেন। স্বামী স্ত্রী একসাথে হাটলে বুঝার উপায় নাই গর্ভবতী কে তারা কি করছেন তার ফিরিস্তি কেন প্রকাশ করছেন না? মাঝে মাঝে সংবাদ সম্মেলন আর মিছিল দিলেকি ইসরাইল ভয়ে পালায়?
এত মিছিল মিটিং করে পেরেছিলেন মায়ানমারকে থামাতে?
কি করেছেন সিরিয়ার কোটি মানুষের জন্য?
আজ মন জানার জন্য আকুলল। প্লিজ আমাদের জানিয়ে ধন্য করুন।
,
সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে আরো হালকা পাতলা জানতে পারি। ভালো করে জানতে পারি ২০০৯ সালের শেষে যখন ঢাবির টিএসসি ক্যাফের নেট জগতের সাথে সখ্যতা গড়ে উঠে। মতামত পক্ষে বিপক্ষে উভয়টাই পড়তে থাকি। কারো মতে যেমন এরদোগান ছিল ইসলামের কাণ্ডারি আবার অন্যদের মতে তিনি ইহুদী নাসারাদের খাস দালাল। কারণ হিসেবে বিপক্ষ দল বহু উপমা পেশ করতে থাকে।
,
ব্যাটার মুখে দাড়ি নাই, গতরে সুন্নত নাই, ন্যাটোর অন্যতম সদস্য, ইইউ তে ঢোকার প্রচেষ্টা, ইসরাইল আমেরিকার সাথে সখ্যতা, দেশে শরীয়া আইন চালুর বালাই নাই ইত্যাদি বহুবিধ প্রমাণে যথেষ্ট ভাবেই প্রমাণিত হয় তিনি একজন ইহুদি নাসারার দালাল। সুতরাং তাকে মুসলিমদের লিডারতো দূরে থাক মুসলিম বলা যায় কিনা তাই যথেষ্ট ইজতিহাদের বিষয়।
,
এই বিষয়গুলোকে সামনে রেখে খুজ দি সার্চ শুরু করলাম। সেই উসমানী খিলাফতের পতন যুগ থেকে একে একে এগিয়ে আসলাম বর্তমান পর্যন্ত।
,
শুধু এরদোগান না দেখলাম একশ্রেণীর দালালদের গল্প। সাইয়্যেদ বদিউজ্জামান নুসরী দিয়ে শুরু। একজন মানুষ কি করে শুধু মানুষকে ইসলামের পথে নিষিদ্ধ ঘোষিত ইসলামের আহবান জানানোর জন্য প্রান্তর কে প্রান্তর চষে ফিরেছেন। প্রেস নিষিদ্ধ তাই নিজের লেখা বইগুলোকে কপি করছেন আবার ছাত্রদের দিয়ে কপি করিয়েছেন তা জনতার মাঝে প্রচার করেছেন। আহলে সালাফ ও তথাকথিত আলেমসমাজ এই লোকটাকেই যখন ইহুদি নাসারা বানিয়ে ছেড়েছে এরদোগানতো এর কিছুইনা সুতরাং সে দালাল হতেই পারে।
,
আসলো তুর্কি পিতা ও প্রাণপুরুষ কামাল আতাতুর্কের ইতিহাস। যিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন তুর্কি সীমায় পাহারা বসিয়েছি সুতরাং তুর্কী সীমায় আল্লাহর প্রবেশ নিষিদ্ধ। এই মহান নেতার বিরুদ্ধে ফতোয়ার কিতাবগুলো অজানা কারণে নিরব হয়েই রইল।
,
আজান প্রথমে নিষিদ্ধ হলো পরে তুর্কি ভাষায় জায়েজ হলো কিন্তু মাইক ব্যবহার নিষিদ্ধ রয়েই গেল। ইসলামী স্কুল বন্ধ, মসজিদে মসজিদে তালা, স্কার্ফ পড়লে বেত্রাঘাত ও জরিমানা, আরবি নাম নিষিদ্ধ, এমনকি মহিলাদের ঢিলেঢালা পোশাকও নিষিদ্ধের তকমা পেল।
,
ভাষা থেকে আরবি বর্ণমালা উঠে গিয়ে রোমান হরফ আসলো, ভাষাবিদদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় তুর্কী ভাষা থেকে ছেঁকে ছেঁকে আরবি ও মুসলিমদের সাথে সম্পর্কিত সকল শব্দমালা বাদ দিয়ে শুদ্ধ তুর্কি ভাষার জন্মনিল। একে একে বহু ইসলামী ব্যক্তিকে রাষ্ট্রীয় আইন লঙ্গনের অভিযোগে কারাপ্রকোষ্ট, মৃত্যুদণ্ড, দেশান্তরি করা হল। কই তখনো কোন ফতুয়া শোনাই গেল না।
,
ইসলামী নাম হীন নিশানাহীন এমন এক তূর্কি জেনারেশন তৈরী হল নামাজতো দূরে অজু কেমনে করতে হয় তাই জানলোনা। এতে বাকশাল, টাকশাল, জাতশাল, মাতশাল, আইনের শাসন কোন প্রশ্নই উঠলোনা।
,
এতো বৈরী পরিবেশে আদনান মেন্দারেস এসে চেষ্টা করলেন ইসলামের জন্য কিছু করা যায় কিনা। কিন্তু কিছু করার আগেই ইহুদিদের দালাল বলে তকমা খেয়ে গেলেন। বাহ কি সুন্দর ইসলামী ফতোয়াবাজী।
,
শত বৈরিতার পরও শিক্ষাক্ষেত্রে নামমাত্র হলেও ইসলামের আগমন ঘটাতে পারলেন। সল্পপরিসরে নামাজের অনুমিত দিয়ে দিলেন। মানুষজন আবার ইসলাম মুখি হওয়ার সুযোগ পেল। কিন্তু যেই আরবিতে আজানের অনুমিত দিলেন সাথে সাথে দেশপ্রেমী সেনাবাহিনী তাকে সংবিধান লঙ্গনের অপরাধে চৌরাস্তার মোড়ে ঝুলিয়ে দিল। আহ আলেমসমাজ হাফ ছেড়ে বাচলো যাক অবশেষে ইহুদিদের দালালের অবসান হয়েছে তুর্কি সেনাদের ধন্যবাদ।
,
নাজিমুদ্দিন এরবাকান আসলেন প্রেক্ষাপটে। তিনিও আসিবা মাত্র দালাল হইয়া গেলেন। একের পর এক পার্টি নিষিদ্ধ, জেল জরিমানা, ইত্যাদি দিয়ে তাকে কোণঠাসা করে ফেলা হল। সব কিছুকে ছাপিয়ে ক্ষমতায় আসলেন ইসলামের জন্য কিছু করার সপ্ন দেখলেন আর দেখলেন সেনাবাহিনীর ক্যু।
,
শুধু একবার না বরং বারবার একই প্রেক্ষাপট রচিত হতে লাগলো যার সর্বশেষ ১৯৯৯ সালে ক্যু এর মাধ্যমে তাকে পদচ্যুত করা হল।
,
শিক্ষাদিক্ষায় ইসলাম নাই, সর্বস্থানে বানরের বংশধর শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে মসজিদে কে কবে নামাজ পড়েছে তাও ইতিহাস। সেই অবস্থায় একাকি এক তরুণ রুখে দাঁড়ালো। নাম তার আদনান উখতার (হারুন ইয়াহিয়া)। ডারউইনের নাতিপুতির সমগ্র রক্তচক্ষু এড়িয়ে ভার্সিটি ক্যাম্পাসে একাকি গাছের তলায় নামায আদায় করা ছেলেটিই দাবী করে বসলো ডারউইনের তথ্যভুল বরং সৃষ্টিজগতের অপার রহস্যভেদ একমাত্র কুর’আন দিতে পারে। একাকী এক ছাত্রের কাছে তুর্কী সকল শিক্ষক পরাস্ত হল। আন্তর্জাতিক সেমিনারে বাঘা বাঘা বিজ্ঞানিকেও তালগোল খাইয়ে ছেড়ে দিল তখন একমাত্র পথ গ্রেফতার ছাড়া আর কিই করা যায়?
,
তাতেও এ পাগলকে দমানো গেলনা বরং তুর্কি আইনে তার বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ গুরুতর না হওয়ায় কি করা যায়? প্রসিকিউটর দাবী করলো এ বদ্ধ পাগল। কিন্তু আদালতেতো প্রমাণ চাই তাই টানা তিন বছর একাকি মর্গে শিকল দিয়ে আবদ্ধ করে রাখা হল যেন এ পরিস্থিতিতে থাকতে থাকতে পাগল হয়ে যায়। কিন্তু বিধিবাম। পাগল প্রমাণ করতে ব্যর্থ এ সরকারকে সস্তি এনে দিল আলেমসমাজ।
,
ফতোয়া জারি হল, আদনান কুর’আন নিজের মত করে ব্যাখ্যা করেছে। আমাদের মত বিশ্লেষণ করেনি সুতরাং এ হারামি কোন দালাল না বরং আস্ত একটা কাফের। বাহ কি চমৎকার।
,
সময়ের আবর্তে তরুণ এরদোগানের উত্থান। এ তরুণ একসময় চেয়েছিলেন ভালো ফুটবলার হবেন। খেলতেনও ভালো কিন্তু বাবা বললেন আমি সপ্নদেখি তুমি জাতির কাণ্ডারি হবে।
,
বিশ্বফুটবলে যশ ক্ষেতিকে পায়ে ঠেলে শুরু হল নতুন পথচলা। টাকা ছাড়া সংসার চলে? তাই পথের পাশে শরবত বিক্রির পাশাপাশি ভবিষ্যতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের উত্থান।
,
জননেতা হিসেবে বিপুল ভোটে ইস্তাম্বুলের মেয়র হলেন। একদিকে সল্প বাজেট অন্যদিকে নানামুখী চাপ সামলিয়ে ইস্তানবুলকে বিশ্বের বুকে নবরূপে পরিচয় করিয়ে দিলেন। দেখিয়ে দিলেন বাজেট ফেক্টর না বরং দুর্নীতি না করাই ফেক্টর। বক্তিতা বিবৃতিতে স্পষ্ট ভাষায় বলে দিলেন সেকুলার আর ইসলাম একসাথে চলতে পারে না। আমি আমি সেকুলার নই আমি মুসলিম।
,
এ কথাযে মস্তবড় অপরাধ। ফলাফল, মেয়র সাহেবের চার বছরের জেল। তার কথাই ছিল-
” ‘মসজিদ আমাদের ক্যান্টনমেন্ট,
গম্বুজ আমাদের হেলমেট,
মিনার আমাদের বেয়নেট
এবং বিশ্বাসীরা আমাদের সৈনিক।”
,
অবশেষে ২০০১ সালে সাংবিধানিক এলার্জিমুক্ত এক দল গঠন করে নাম দিলেন। জাস্টিস এন্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একে পার্টি)। নির্বাচনে বিজয়ী হলেন আর মানুষের হৃদয় জয় করার এক অদম্য মিশনে নেমে পড়লেন। এ কাজ কি এতই সহজ?
মানুষ বুঝতে পারলো এ সব ইসলামের ঝলকানি তারা এ নূরের দিকে আকৃষ্ট হল কিন্তু তাতে মাথায় বাজ পড়লো ইসলামের দুশমনদের তার চেয়েও বড় বাজ পড়লো মুনাফিকদের।
,
গোলেন মুভমেন্ট ইসলামের নামে উত্থান হলেও কালক্রমে তাদের স্বরুপ প্রকাশ পেতে শুরু করে। বিশ্বব্যাপী তাদের তৈরী তুর্কি কালচারাল সেন্টারগুলোতে উঠতি বয়সের যুবতী নাচিয়ে তুর্কি কালচার প্রকাশ করে। বিশ্বাস না হলে ইউটিউব ঘাটতে পারেন।
,
তাদের ইসলামের নামে এই কাজ ও সেকুলারিজমের সাথে সখ্যতার দরূন এরদোগান বিরোধীতা করায় ২০০৯ থেকে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। গোলেন চক্রের কয়েকদফা ক্যু এর চক্রান্ত ভেস্তে যায়। যার সর্বশেষ ধাক্কা ছিল গতবছর।
,
ইসলামের শত্রুদের কাছে এরদোগান একজন ইসলামিস্ট হলেও ইসলামের ধ্বজাধারী আকাইম্মাদের কাছে এরদোগান ইহুদি নাসারাদের দালাল ছাড়া কিছুই না।
,
যে তুরস্কে আজান দেওয়া নিষিদ্ধ সেখানে এখন নামাজির অভাব নাই। ইসলামী স্কুলের পিছনে সরকারি ব্যায় প্রতি বছর বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আরবি ভাষা ফিরিয়ে আনছে।
নিষিদ্ধ হিজাব আজ সহজলভ্য।
মদের বার গুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে রাত্রিকালীন আইনের আওতায়।
প্রসিদ্ধ শহরে পতিতালয় নিষিদ্ধ।
কিছুদিন আগে দেখলাম কোন এক পরিচালক বলছেন নতুন তুর্কি আইনে মুভিতে অশ্লীলতা দূরে বরং যদি থাকে I want to sleep with you. তাহলে ঐ মুভির আর আলোর মুখ দেখার সম্ভাবনা নাই।
বিশ্বের তাবত মজলুম জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সোচ্চার কন্ঠ।
বিশ্বের সর্বোপরি সাহায্যের সিংহভাগ তুর্কি।
হামাস ও নির্যাতিত সিরিয়া বাসির নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল।
এত কিছুর পরও বেচারা একটা দালাল।
,
অথচ যারা আলেম সেজে আজ ফতোয়ার ফুলঝুরি ছোটাচ্ছেন। স্বামী স্ত্রী একসাথে হাটলে বুঝার উপায় নাই গর্ভবতী কে তারা কি করছেন তার ফিরিস্তি কেন প্রকাশ করছেন না? মাঝে মাঝে সংবাদ সম্মেলন আর মিছিল দিলেকি ইসরাইল ভয়ে পালায়?
এত মিছিল মিটিং করে পেরেছিলেন মায়ানমারকে থামাতে?
কি করেছেন সিরিয়ার কোটি মানুষের জন্য?
আজ মন জানার জন্য আকুলল। প্লিজ আমাদের জানিয়ে ধন্য করুন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন