মঙ্গলবার, ১১ জুলাই, ২০১৭

নাম বিকৃতির ফলে হারিয়ে যাওয়া মুসলিম মণীষীগণ

নাম বিকৃতির ফলে হারিয়ে যাওয়া মুসলিম মণীষীগণ


সেখ সাদ্দাম হোসেন: জ্ঞান বিজ্ঞান, চিকিৎসা, শিল্প সাহিত্য ও বিশ্ব সভ্যতায় মুসলমান দের যে শ্রেষ্ঠ অবদান রয়েছে তা আমরা অনেকেই জানিনা। জ্ঞান -বিজ্ঞানের প্রায় সকল ধারা বা শাখা প্রশাখা মুসলিম মণীষীদেরই আবিস্কার। বলা যেতে পারে তাঁদের মৌলিক আবিস্কারের উপরই বর্তমান জ্ঞান-বিজ্ঞানের অধিষ্টান। মুসলমান দের জ্ঞান চর্চা করেই অমুসলিম বিশ্ব আজ উন্নত। কিন্তু পাশ্চাত্ত্য সভ্যতার ধারক ও বাহক এবং তাদের অনুসারী ইউরোপীয় পন্ডিতগন ষড়যন্ত্র মুলক ভাবে মুসলিম মণীষীদের নাম মুসলমান দের স্মৃতিপট থেকে চিরতরে মুছে ফেলার জন্য ইসলামের ইতিহাস এবং মুসলিম বিজ্ঞানীদের নাম কে এমন বিকৃত ভাবে লিপিবদ্ধ করেছে যে নাম দেখে বোঝার উপায় নেই ইনি একজন খাঁটি মুসলমান। ফলে সঠিক ইতিহাস অবগত না থাকার কারনে, সভ্যতার উন্নয়নে মুসলমান দের কোন অবদান নেই বলে প্রচার করা হয়। অথচ সভ্যতার উন্নয়নের মূলেই অমুসলিম গন মুসলিম মণীষীদের কাছে ঋণী। তাই সঠিক ভাবে অতিতের ইতিহাসে পদচারণা করলেই ফুটে ওঠে অসাধারণ প্রতিভার গুনে গুনান্বিত কিছু অবিস্মরণীয় মুসলিম মণীষী ব্যাক্তিত্ব।

এদের মধ্যে উল্লখযোগ্য হল “দ্বিতীয় এরিস্টটল” বলে খ্যাত আবু নাসের মোহাম্মাদ (৮৭০-৯৬৬)। যিনি নাম বিকৃতির কুফলে হয়ে যান “আল ফারাবী’। পদার্থ বিজ্ঞান, সমাজ বিজ্ঞান, দর্শন, যুক্তিশাস্ত্র, গণিত শাস্ত্র, চিকিৎসা বিজ্ঞান সহ বিজ্ঞানের এমন কোনো শাখা বাকি ছিলনা যেখানে আবু নাসের মোহাম্মদের প্রতিভা বিস্তৃত হয় নি। বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ দার্শনিক দের মধ্যে অন্যতম আল ফারাবীই প্রথম পদার্থ বিজ্ঞানে “শূন্যতার” অবস্থান প্রমাণ করেছিলেন।

আবার চিকিৎসা বিজ্ঞান সম্বন্ধে বলতে গেলে যার নাম প্রথমে ভেসে ওঠে তিনিও এক মুসলিম তাপস। “মানব দেহে রক্ত সঞ্চালনের ব্যবস্থা কে আবিস্কার করেছিলেন?” “ফুসফুসের নির্মাণ কৌশল কে সভ্যতাকে সর্ব প্রথম অবগত করিয়েছিলেন?” “শ্বাসনালির অভ্যন্তরীন অবস্থা কেমন?” “মানবদেহে বায়ু ও রক্ত প্রবাহের মধ্যে ক্রিয়া-প্রক্রিয়ার ব্যাপারটা কী?” এসব প্রশ্নের উত্তরে যাঁর নাম এককভাবে উচ্চারিত হয় তিনি হলেন আলাউদ্দীন আবুল হাসান আলী ইবনে আবুল হাজম ইবনুন নাফিস আল কোরায়েশি (১২০৮-১২৮৮)। এয়োদশ শতাব্দীর চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিপ্লবের সূচনাকারী “ইবনুন নাফিস” ছিলেন অতি বিশিষ্ট দক্ষ এক ইমাম ও অতি উচ্চশিক্ষিত বিজ্ঞ হাকিম। চিকিৎসা বিজ্ঞানের বহু গ্রন্থের প্রনেতা হিসাবে মৃত্যুরপূর্ব পর্যন্ত চিকিৎসা বিজ্ঞানে তাঁর অবদান সর্বাধিক। হৃদপিণ্ডের এনাটমি নিয়ে পূর্বের মতবাদকে খন্ডন করে তাঁর দেওয়া মতবাদ বর্তমান চিকিৎসা বিজ্ঞানে সম্পূর্ণ বিজ্ঞান সম্মত বলে গৃহীত হলেও বিজ্ঞান জগতে তাঁকে স্বীকৃতি দেওয়া হয় নি।

পদার্থবিজ্ঞান, দর্শন, ধর্মতত্ত্ব, জ্যামিতি, গনিত, চিকিৎসা বিজ্ঞান, সাহিত্য প্রভৃতি বিষয়ে শতাধিক গ্রন্থ রচনাকারী মুসলিম মণীষী আবু আলী আল্‌ হুসাইন ইবনে আবদুল্লা ইবনে সিনা (৯৮০-১০৩৭) ই হলেন প্রকৃতপক্ষে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের জনক। ইবনে সিনা নামে পরিচিত এই মণীষীকে “দ্বিতীয় জালিনুস” ও বলা হয়ে থাকে। পাঁচ খন্ডে বিভক্ত ও চার লক্ষাধিক সংখ্যা বিশিষ্ট তাঁর রচিত “আল কানুন ” গ্রন্থটি তৎকালীন চিকিৎসা বিজ্ঞানের যুগে এক বিপ্লবের সুচনা করেছিল। এতে শতাধিক জটিল রোগের কারন, লক্ষণ পথ্যাদির বিস্তারিত বিবরন দিয়েছিলেন। জল ও ভূমির মাধ্যমে যে সকল রোগ ছড়ায় তা তিনি আবিস্কার করেছিলেন। “মেনেনজাইটিস” রোগের লক্ষণ সনাক্তকরণ তিনিই সর্ব প্রথম করেছিলেন। তাঁর রচিত “আশ শেফা” তো দর্শন শাস্ত্রের অমূল্য রত্ন।

সমাজ বিজ্ঞানের পিতা বলে পরিচিত আবু জায়েদ ওয়ালীউদ্দিন ইবনে খালদুন (১৩২২-১৪০৬)ও ইতিহাসের পাতায় ইবনে খালদুন হয়ে দৃষ্টির অন্তরালে চলে গেছেন। দর্শন, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ বিজ্ঞান, ইতিহাস প্রভৃতি বিষয়ে অসাধারণ পান্ডিত্যের অধিকারি আবু জায়েদ ওয়ালীউদ্দিন সমাজ বিজ্ঞান ও বিবর্তন বাদ সম্পর্কে অনেক নতুন তথ্য আবিস্কার করেন। তাঁর রচিত “কিতাব আল ইবর” তো বিশ্বের প্রথম এক সর্ব বৃহৎ ইতিহাস গ্রন্থ।

আবার বর্তমান বিজ্ঞান যাঁর মৌলিক আবিস্কারের উপর অধিষ্ঠান তিনি হলেন রসায়ন বিদ্যার জন্মদাতা আবু আবদুল্লাহ জাবির ইবনে হাইয়ান। ইউরোপীয় পন্ডিত গনের নাম বিকৃতির ষড়যন্ত্রের রোসানলে পরে তিনি হয়ে গেছেন “জিবার”। ফলে বোঝার উপায়ই নেই যে রসায়ন বিদ্যার জনক হলেন একজন ধর্মপ্রাণ খাঁটি মুসলমান। মুসলিম স্মৃতিপটে তাঁর ছায়াও এখন পড়ে না। তিনিই সর্বপ্রথম “নাইট্রিক এসিড” ও “সালফিউরিক এসিড” আবিস্কার করেন। স্বীয় গ্রন্থ “কিতাবুল ইসতিসমাস” এ তিনি নাইট্রিক এসিড প্রস্তুত করার ফর্মূলা বর্ণনা করেন। পাতন, পরিস্রাবণ, দ্রবণ, কেলাসন, ভস্মীকরন, গলন, বাস্পীভবন ইত্যাদি রাসায়নিক সংশ্লেষণ বা অনুশীলন, গবেষনার ফলে কী কী রুপান্তর হয় এবং তার ফল কী তিনি তা বিস্তারিত বর্ণনা করে নামকরণ বা সংজ্ঞা উল্লেখ করেছেন। স্বর্ন গলানোর “একোয়া রিজিয়া” নামক পদার্থটি তারই আবিস্কৃত। এছাড়াও দুই হাজারের বেশি গ্রন্থ রচনাকারী জাবির ইবনে হাইয়ান বিজ্ঞানের শাখায় আরও অনেক কিছু আবিস্কার করেন। বর্তমান প্রজন্মের অনেকর কাছেই তিনি অজ্ঞাত অথচ বিজ্ঞানে তাঁর অবদান চিরস্মরনীয়।

জ্যোতির্বিজ্ঞানেও মুসলিম মণীষীদের অবদান অনস্বীকার্য। যে বিজ্ঞানী সর্ব প্রথম এক সৌর বৎসরের নির্ভুল পরিমাপ করে দেখিয়ে ছিলেন তিনি হলেন আবু আবদুল্লাহ ইবনে জাবির ইবনে সানান আল বাত্তানী (৮৫৮-৯২৯)। যিনি “আল বাত্তানী” নামেই পরিচিত। চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, নক্ষত্র প্রভৃতির প্রকৃতি, গতি ও সৌর জগত সম্বন্ধে তাঁর দেওয়া সঠিক অভিনব তথ্য গুলি জ্যোতির্বিজ্ঞানে এক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। টলেমি সহ বহু জ্যোতির্বিজ্ঞানীর ভুল সংশোধন করে তিঁনি বলেন, “সূর্য স্থীর নয়, আপন কক্ষপথে গতিশীল।” অংক শাস্ত্রেও ছিল তাঁর গভীর পান্ডিত্যে। তাঁর অসাধারণ প্রতিভার বলেই নির্জীব ত্রিকোণমিতি হয়ে ওঠে সজীব। তিঁনি বলেন, “ত্রিকোণমিতি হচ্ছে একটা স্বয়ং স্বাধীন বিজ্ঞান।” ত্রিভুজের বাহুর সঙ্গে কোনের ত্রিকোণমিতির সম্পর্ক তারই আবিস্কার। সাইন, কোসাইনের সঙ্গে ট্যানজেস্টের সম্পর্ক আবিস্কার করে ত্রিকোণমিতির কিছু কিছু সমস্যার অত্যন্ত বিস্ময়কর সমাধান দিয়েছিলেন। এক কথায় তাকে ত্রিকোণমিতির জনক বলা যেতে পরে।

[গৃহকর্মীরা কেনো অপকর্ম করবে না?]

দশম-একাদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়কালে যাঁর একান্ত সাধনায় জ্ঞান-বিজ্ঞানের এক নব সূর্যের আলোকে উদ্ভাসিত হয়েছিল তিনি হলেন আবু রায়হান মুহাম্মদ ইবনে আমদদ আল বিরুনী (৯৭৩-১০৪৮)। যিনি আল বিরুনী নামে অধিক পরিচিত। পৃথিবীর ইতিহাস জগৎ বাসীর সামনে রেখে গেলেও ইতিহাসের পাতায় তাঁর আত্ম পরিচয় পাওয়া যায় না। জ্যোতির্বিজ্ঞান, পদার্থ বিজ্ঞান, চিকিৎসা বিজ্ঞান, রসায়ন, জীবতত্ত্ব, ভূতত্ত্ব, উদ্ভিদ তত্ব, গণিত, দর্শন, ন্যায়শাস্ত্র, দিন পঞ্জির তালিকা ও ইতিহাস, সভ্যতার ইতিহাস, ধর্মতত্ত্ব প্রভৃতি বিষয়ে তিঁনি ছিলেন অগাধ পান্ডিত্যের অধিকারী। তাঁর রচিত শতাধিক গ্রন্থের মধ্যে এ সমস্ত বিষয়ে গভীর ভাবে আলোচনা করেছেন। “প্রাকৃতিক ঝর্ণা” ও “আর্টেজীয় কূপের” রহস্য উদঘাটন তিঁনিই করেছিলেন। তাই বলা যেতে পারে আল বিরুনী শুধু মুসলিম বিশ্বেরই নন, বরং তিঁনি হলেন সমগ্র বিশ্বের সর্ব কালের সর্ব শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী দের মধ্যে শীর্ষ স্থানীয় এক মহাপুরুষ। তাঁর ও অন্যান্য মুসলিম বিজ্ঞানীদের মৌলিক আবিস্কারের উপরই গড়ে উঠেছে আধুনিক বিজ্ঞান।

নাম বিকৃতির কদর্য ষড়যন্ত্রের স্বীকার কোরান, হাদিস, আইন, চিকিৎসা, জ্যোতির্বিজ্ঞান, অংক শাস্ত্র, পদার্থ বিজ্ঞান প্রভৃতির উপর অসাধারণ পান্ডিত্যের অধিকারী আবুল ওয়ালিদ মোহাম্মাদ ইবনে আহমদ ইবনে মোহাম্মাদ ইবনে রুশদ। ইউরোপীয় পন্ডিতগন তাঁর নাম বিকৃত করে “এভেরাস’ নামে লিপিবদ্ধ করেছে।এছাড়াও অন্যান্য অমুসলিম মণীষীদের নাম, প্রচার, প্রসার ও আবিস্কারকে যেভাবে ইতিহাসের পাতায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে,সেভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়নি মুসলিম বিজ্ঞানী,শ্রেষ্ঠ ভৌগলিক “আল-মাসউদি”,শ্রেষ্ঠ গণিতজ্ঞ “ইব্রাহিম ইবনে সিনান”, অংক শাস্ত্রে শুন্যের জন্ম দাতা ও বীজগণিতের আবিস্কারক “আল খোয়ারিজমি”, তুলো থেকে সর্ব প্রথম কাগজ তৈরির কারিগর “ইউসুফ ইবনে উমার”, ম্যাংগানিজ-ডাই-অক্সাইড থেকে কাঁচ তৈরির পদ্ধতির আবিস্কারক “আররাজী”, জলের গভীরতা ও স্রোত মাপার যন্ত্রের আবিস্কারক “ইবনে আবদুল মাজিদ” ও আকাশ জগতের জন্য সর্ব প্রথম মানমন্দির তৈরির বিজ্ঞানীদ্বয় “হাম্মাদ ইবনে মাসার” ও “হুনাইন ইবনে ইসহাক” সহ আরও অনেককে। আর পৃথিবীর প্রথম মানচিত্র “সুরাতুল আরদ” তো ৬৯ জন মুসলিম ভূগোলবিদ মিলেই আবিস্কার করেন।

সুতরাং বলা যেতে পারে যে এমন এক সময় ছিল যখন মুসলিম জাতি জ্ঞান-বিজ্ঞান,শিল্প ও সাহিত্যে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠত্বের আসনে অধিষ্ঠিত ছিল। পরবর্তীতে ইউরোপের বিজ্ঞানীরা মুসলিম মনীষীদের জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্প সাহিত্যকে চর্চা করে ক্রমান্বয়ে আজ উন্নতির শিখরে উঠেছে। কিন্তু মুসলিম জাতি তাদের পূর্ব-পুরষদের সুবিশাল জ্ঞান ভান্ডারকে উপেক্ষা করে আজ বিশ্বের বুকে অশিক্ষিত, দারিদ্র ও পরামুখাপেক্ষী জাতি হিসাবে পরিনত হয়েছে।

সূত্র: টিডিএন বাংলা

ওসমানিনগরে চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার আটক১!

ওসমানিনগরে চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার আটক১!

অঞ্জন দেব সবুজ:

সিলেটের ওসমানি নগর উপজেলা তাজপুর বাজার নামক স্থানে গত ১৭ইং তারিখে এক ই উপজেলার কাগজপুর গ্রামের শাহিন মিয়ার বাড়ি থেকে গভির রাতে ঘরের গ্রিল কেটে মোটরসাইকেল চুরি হয়ে যায়, এতে একইদিন ওসমানি নগর থানায় শাহিন মিয়া লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন, জিডি নং ৬৭/১৭
এরই পেক্ষিতে আজ ১১/০৭/১৭ইং তারিখে ওসমানি নগর থানাপুলিশ তাজপুর বাজার নামক স্থান থেকে মটোর সাইকেল টি উদ্দার করে।

আটক এনামুল (২৫) জগ্নান্থ পুর।

এব্যাপার ওসমানি নগর থানার এস,আই,মুহিব সত্যতা স্বিকার করেছেন।

ইলিয়াসপত্নীর প্রতিদ্বন্ধি হচ্ছেন কোন চৌধুরী?

ইলিয়াসপত্নীর প্রতিদ্বন্ধি হচ্ছেন কোন চৌধুরী?

নিজস্ব প্রতিবেদক :
সিলেট-২ (বালাগঞ্জ-বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে শুরু হয়ে গেছে একাদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি। গত নির্বাচনে এ আসনটিতে জাতীয় পার্টির ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া সাংসদ নির্বাচিত হন। এবার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান নতুন জোট ঘোষণা করায় পাল্টে যাচ্ছে সব হিসেব-নিকাশ।
আওয়ামীলীগ মনোয়ন পেতে তৎপরতা চালাচ্ছেন একাধিক প্রার্থী। বিএনপি নির্বাচনে গেলে এ আসন থেকে প্রার্থী হবেন নিখোঁজ বিএনপির নেতা ইলিয়াস আলী স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা। এছাড়াও জাতীয় পার্টির একাধিক প্রার্থী মনোয়ন পেতে তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহিবুর রহমানকে  হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া। লাঙ্গল প্রতীকে এহিয়া পান ৪৮ হাজার ১৫৭ ভোট আর মুহিবুর রহমান আনারস প্রতীক নিয়ে পান ১৭ হাজার ৩৮৯ ভোট।
নবম সংসদ নির্বাচনে হেভিওয়েট প্রার্থী বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীকে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তখনকার যুক্তরাজ্য ফেরত আওয়ামী লীগ নেতা শফিকুর রহমান চৌধুরী। অনেকটা চমক সৃষ্টি করেই নির্বাচনে জিতে যান তিনি।
সে নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে শফিকুর রহমান চৌধুরী পান ১ লক্ষ ৮ হাজার ২৮০ ভোট। আর ইলিয়াস আলী পান ১ লক্ষ ৫ হাজার ১০৬ ভোট।
গত নির্বাচনে মহাজোটের স্বার্থে দলের হাই কমান্ডের নির্দেশে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে আসটি ছেড়ে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়াকে।
এবারের নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে দুই ‘চৌধুরী’ রয়েছেন আলোচনায়। এদের একজন সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী, অন্যজন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। তিনি যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রেহানার অত্যান্ত কাছের মানুষ হিসেবে পরিচিত।
বিভিন্ন সভা সমাবেশে দলের মনোনয়ন পেলে নির্বাচন করবেন বলেও ঘোষণা দিচ্ছেন আনোয়ারুজ্জামান। ঘন ঘন দেশে এসে নেতা-কর্মীদের উজ্জীবিত করতে ও এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে যেতে সভা-বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন।
আওয়ামী লীগে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকলেও বিএনপিতে নতুন মুখ আসছে, এটা প্রায় নিশ্চিত।
‘নিখোঁজ’ ইলিয়াস আলী ছিলেন এ আসনের বিএনপির সাবেক সাংসদ। বর্তমানে তাঁর স্ত্রী তাহসিনা রুশদী লুনাই আছেন দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার দৌঁড়ে। বিএনপি নির্বাচনে গেলে তাহসিনাই দলীয় মনোনয়ন পাবেন বলে মনে করছেন নেতা-কর্মীরা। তবে এ আসনে প্রার্থী হতে কেন্দ্রীয় বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও তারেক রহমানের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত হুমায়ুন কবির যুক্তরাজ্যে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান। এছাড়াও ২০দলীয় জোটের শরিক খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুনতাসির আলী  এই আসনে নির্বাচন করতে অনেকটা আগ্রহী। এ লক্ষ্যে তিনি জনসংযোগ করে যাচ্ছেন।
এছাড়া জাতীয় পার্টির দুই মনোনয়ন প্রত্যাশীও রয়েছেন মাঠে। বর্তমান সাংসদ ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়ার পাশাপাশি দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল্লাহ সিদ্দিকীও আগ্রহী।

সোমবার, ১০ জুলাই, ২০১৭

মরণফাঁদে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক

মরণফাঁদে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক

নিউজ ডেস্ক:
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। রীতিমতো মরণফাঁদে পরিণত হচ্ছে। রাস্তা বন্ধ করে হাট বসানো, গাড়ির অবৈধ স্ট্যান্ড এই মহাসড়কের কয়েকটি স্থানকে করে তুলেছে ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্ঘটনাপ্রবণ। আর ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিশ্বরোড মোড় থেকে একেবারে সিলেট পর্যন্ত মহাসড়কের স্থানে স্থানে ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন চলছে ঝুঁকি নিয়ে। এসব গর্ত জোড়াতালি দিয়ে এই মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। সরেজমিন এসব চিত্র পাওয়া গেছে।
ঢাকা থেকে সিলেটের দূরত্ব প্রায় ২৫০ কিলোমিটার। এ বিশাল দূরত্বের মহাসড়কে যন্ত্রণা শুরু হয় কাঁচপুর সেতু পার হওয়ার পরই। বিশেষ করে ভুলতা থেকে যাত্রী ও পণ্যবাহী পরিবহন এবং ছোট-বড় সব যানবাহনকে ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয় এই মহাসড়কে। সরেজমিন দেখা গেছে, ভুলতায় ফ্লাইওভার নির্মাণের কাজ চলায় এখানে প্রায় এক থেকে দেড় কিলোমিটার সড়কের অবস্থা খুবই নাজুক। দীর্ঘদিনেও ফ্লাইওভারের কাজ শেষ না হওয়ায় রাস্তাটিও সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে খানাখন্দে ভরে আছে মহাসড়কের ভুলতা এলাকা।
ভুলতা পার হয়ে মাধবদী পৌঁছাতেই তীব্র যানজটে পড়তে হয় এ সড়কে চলাচলকারী সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, কুটি চৌমুহনী অভিমুখী যানবাহনকে। সরেজমিন দেখা গেছে, মাধবদীতে প্রায় এক কিলোমিটার সড়কজুড়ে মহাসড়কের উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। কর্তব্যরত পুলিশ সড়ক আইল্যান্ডে নির্বাক দাঁড়িয়ে থাকার সুযোগে যানজটে আটকে থাকা গাড়িগুলো প্রায়ই উল্টো পথে চলতে শুরু করে। এ অবস্থায় সড়কজুড়ে হ-য-ব-র-ল অবস্থার সৃষ্টি হয়। শুধু তাই নয়, মাধবদী বাজার পার হয়ে পাঁচদোনা চৌরাস্তায় গিয়েও একই চিত্র দেখা গেছে। সেখানে আরও ভয়াবহ অবস্থা হচ্ছে চৌরাস্তার চারপাশজুড়ে সড়কে বিশাল বিশাল গর্ত। তাতে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় যানবাহন চলাচল করে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে। নরসিংদী চৌরাস্তায়ও একই চিত্র দেখা গেছে। বারৈচা বাজার অতিক্রম করার সময় দেখা গেছে, যানবাহনগুলো প্রায়ই উল্টো পথে চলাচল করছে। বিশেষ করে ঢাকা থেকে সিলেটগামী যানবাহনগুলো এই বাজার অক্রিতম করে উল্টো পথে। এর কারণ দুই লেনের এই সড়কের এক লেনের পুরোটাই দখল করে আছে সবজির হাট। প্রায় প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বারৈচায় মহাসড়কের ওপর সবজির হাট বসে। এতে করে দীর্ঘ যানজট দেখা দেয়। এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসন বা সড়ক ও জনপথ বিভাগ কোনো পদক্ষেপ নেয় না। একই অবস্থা ভৈরব বাজারেও। পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ সেতু পার হয়ে ভৈরব বাজার পৌরসভায় পৌঁছামাত্রই একেবারে মেঘনা সেতুর টোল প্লাজার আগে সড়ক বিভাগের বাংলোর সামনে দীর্ঘ যানজট লেগে থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। সড়কের প্রায় দুই কিলোমিটার অংশের দুই পাশে লোকাল গাড়ির জটলা এবং রাস্তার পাশেই ভৈরব বাজার বাস টার্মিনাল থাকায় যানজটের ভোগান্তি এখানকার নিত্যদিনের। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আরও বিড়ম্বনা শুরু হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিশ্বরোড পার হওয়ার পর। তিতাস নদীর ওপর বছরের পর বছর ধরে যান চলাচলের অনুপযোগী ঝুঁকিপূর্ণ সেতু পার হয়েই দেখা মেলে মহাসড়কজুড়ে শুধুই ছোট-বড় গর্ত আর গর্ত। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর, হবিগঞ্জের মাধবপুর, চুনারুঘাট, শায়েস্তাগঞ্জ, বাহুবল নবীগঞ্জ, মৌলভীবাজারের শেরপুর পেরিয়ে একেবারে সিলেট পর্যন্ত সড়কের এমন বেহাল অবস্থা দীর্ঘদিনের। মহাসড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার হয়নি। মহাসড়কের এমন করুণ অবস্থার মধ্য দিয়েই যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে প্রতিদিন। আগে থেকেই খানাখন্দে ভরা এই মহাসড়কের আরও বেহাল অবস্থা হয়েছে চলতি বর্ষায় পিচ উঠে যাওয়ায়। গর্তগুলো ক্রমেই বৃহৎ আকার ধারণ করছে। সরেজমিন দেখা গেছে, সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) সিলেট অঞ্চল সড়ক মেরামতের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে গর্ত ভরাটে। শায়েস্তাগঞ্জ এলাকায় দেখা গেছে, সওজের ট্রাকে করে গর্তগুলোতে পাথর ফেলে ভরাটের চেষ্টা চলছে। এতে একদিকে গর্ত ভরাট হচ্ছে অন্যদিকে প্রবল বৃষ্টির কারণে এবং দ্রুত গতিতে গাড়ি চলাচলের কারণে পাথর উড়ে গিয়ে সেই পুরনো গর্তই ভেসে উঠছে।

যুক্তরাষ্ট্রে তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের ঈর্ষণীয় সাফল্য

যুক্তরাষ্ট্রে তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের ঈর্ষণীয় সাফল্য

শিব্বীর আহমেদ, ওয়াশিংটন

যুক্তরাষ্ট্রে তথ্যপ্রযুক্তিতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা অভাবনীয় সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। সরকারি-বেসরকারিসহ তথ্যপ্রযুক্তির সর্বক্ষেত্রেই বাংলাদেশি তরুণ প্রজন্মের ইঞ্জিনিয়ার ও আর্কিটেক্টরা অত্যন্ত দক্ষতা ও সফলতার সঙ্গে কাজ করে আকাশচুম্বী সাফল্য অর্জন করেছেন।
সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার, ডাটাবেজ ডেভেলপমেন্ট এবং ম্যানেজমেন্ট, অটোমেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, পারফরম্যান্স ইঞ্জিনিয়ারিং, টেস্টিং—সর্বক্ষেত্রেই অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী তরুণ প্রজন্মের বাংলাদেশিরা সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে চলেছেন প্রতিনিয়ত। আয় করছেন পাঁচ থেকে ছয় ফিগারের বেতন।

কাজের ক্ষেত্রে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করছেন এন্টারপ্রাইজ প্রোগ্রাম ল্যাঙ্গুয়েজ জাভা, সিসি প্লাস প্লাস, পাইথন, ডট নেট ফ্রেমওয়ার্ক ইত্যাদি। এ ছাড়া ব্যবহার করছেন গিটহাব, জেনকিনস, লোডরানার, জেমিটার, এইচপি পারফরম্যান্স সেন্টার, ওরাকল, সিক্যুয়েল সার্ভার, নিউরেলিক, পালাংক, কুইকটেস্ট প্রো, রুবি কুকুমবার, সেলেনিয়াম, জিরা, এইচপি এএলএম ইত্যাদি নানা জনপ্রিয় টুলস। ব্যবহার করছেন উইন্ডোজ, ইউনি·/লাইনে·, ক্লাউডসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম।
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড ডিপার্টমেন্টের ইউনাইটেড স্টেটস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসের কন্ট্রাক্টর তরুণ বাংলাদেশি শেখ রহমান। মাত্র ৩০ বছর বয়সেই অত্যন্ত দক্ষতা আর সফলতার সঙ্গে অটোমেশন ইঞ্জিনিয়ার টিমের ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছেন তিনি। প্রায় ২০ জন ইঞ্জিনিয়ারের একটি অটোমেশন দলের দায়িত্ব পালন করছেন। শেখ রহমানের টিমের বেশির ভাগ সদস্যই বাংলাদেশি এবং সবাই অত্যন্ত দক্ষতা ও সফলতার সঙ্গেই কাজ করছেন বলে জানান তিনি। বলেন, ‘আমি একজন বাংলাদেশি। আমার যখনই কোনো সুযোগ আসে, আমি তখনই বাংলাদেশিদেরই নিয়োগ প্রদান করে থাকি।’
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড ডিপার্টমেন্টের ইউনাইটেড স্টেটস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসের ম্যানেজার তরুণ বাংলাদেশি শেখ রহমান বলেন, ‘আমি বাংলাদেশকে ভালোবাসি। বাংলাদেশেই আমি জন্মগ্রহণ করেছি। কিন্তু এখানে আসার পর থেকেই ইনফরমেশন টেকনোলজির ওপর আমার আগ্রহ সৃষ্টি হয় এবং পড়াশোনা করি।’ তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে আমি একটি বড় এবং শক্তিশালী মেধাসম্পন্ন বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়ারিং টিমের নেতৃত্ব দিচ্ছি। এটা আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের এবং আনন্দের।’
শেখ রহমান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটির বিভিন্ন প্রজেক্টে শত শত বাংলাদেশি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছেন। শুধু হোমল্যান্ড ডিপার্টমেন্টের ইউনাইটেড স্টেটস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন বাংলাদেশি কাজ করছেন। আমি যে কোম্পানির হয়ে কাজ করছি, সেই কোম্পানি থেকে প্রায় ৩০ জন বাংলাদেশি কাজ করছেন।’ তিনি বলেন, ‘যখনই আমি নিয়োগ প্রদানের সুযোগ পাই, সবার আগে আমি বাংলাদেশি খুঁজে বের করার চেষ্টা করি এবং তাঁদের নিয়োগের ব্যাপারে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার চেষ্টা করি।’
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড ডিপার্টমেন্টের ইউনাইটেড স্টেটস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসে নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে কাজ করছেন মোহাম্মদ সাইদ। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ প্রজন্মের বাংলাদেশিরা অত্যন্ত মেধাবী। শুধু যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটিতেই নয়, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিভিন্ন বিভাগে শত শত বাংলাদেশি অত্যন্ত দক্ষতা ও সফলতার সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে কাজ করছেন।’
ইউনাইটেড স্টেটস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসে লিড হিসেবে কাজ করছেন মোহাম্মদ আজাদ। ছয় থেকে সাতজনের একটি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। তাঁর টিমে আমেরিকান, রাশিয়ান, অফ্রিকানসহ বিভিন্ন দেশের ইঞ্জিনিয়ার কাজ করছেন। আবদুল্লা চৌধুরী কাজ করছেন পারফরম্যান্স ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। অত্যন্ত দক্ষতা আর সফলতার সঙ্গেই কাজ করেন ১৫ জনের একটি দলে। এই দলে আমেরিকান, রাশিয়ান, চায়নিজ, আফ্রিকান, শ্রীলঙ্কানসহ নানা দেশের পারফরম্যান্স ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করছে। সবার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তিনি কাজ করছেন ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির বিভিন্ন প্রজেক্টে।
এ ছাড়া তারিক আলম, মুকুল মোহসীন, তাজবীর আহমেদ, আবু মাহফুজ, আজাদ আহমেদ, কাজী রশীদ, মোহাম্মদ আলমসহ আরো অনেক তরুণ প্রজন্মের ইঞ্জিনিয়ার ও আর্কিটেক্টরা সুনাম ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছেন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিভিন্ন প্রজেক্টে। দেশের জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য আরো বড় কিছু করার আগ্রহ ব্যক্ত করে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড ডিপার্টমেন্টের ইউনাইটেড স্টেটস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসের ম্যানেজার শেখ রহমান বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশি তরুণ প্রজন্মকে নতুন নতুন তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করে তাঁদের সেই টেকনোলজির সঙ্গে আপডেট রেখে কাজের উপযুক্ত করে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। খুব শিগগির যুক্তরাষ্ট্রে তথ্যপ্রযুক্তিতে কর্মরতদের একটি ছাতার নিচে নিয়ে এসে ঐক্যবদ্ধ করে সভা-সেমিনার প্রযুক্তিগত তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে ভূমিকা রাখার ব্যাপারে চিন্তাভাবনা নিয়ে কাজ করছি। খুব শিগগির এ ব্যাপারে সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে চাই, যার মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ নতুন প্রজন্মের তরুণরা প্রবাসে এবং দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে সে লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। দিনভর কাজ শেষে বিকেল-সন্ধ্যায় বাড়ির ছাদে পিৎজা, সোডা, পানি, চিপস ইত্যাদি নিয়ে আডডা দিয়ে তথ্যপ্রযুক্তিসম্পন্ন প্রবাসী বাংলাদেশিরা আবারও ঘরে ফিরে যান পরিবার-পরিজনের কাছে। আপনজনের ছোঁয়ায় আবার শুরু হয় পরের দিন কাজে যাওয়ার প্রস্তুতি।

সিলেটে কামরানকে প্রধানমন্ত্রীর গ্রিন সিগন্যাল, আসাদের দ্বিমত পোষন

নিউজ ডেস্ক:
আসন্ন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে নির্দেশ নিয়েছেন দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, এমনটি একটি খবর রোববার ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
এ ব্যাপারে রোববার রাতে যোগাযোগ করা হলে, বদরউদ্দিন আহমদ কামরানও জানিয়েছেন দলীয় প্রধানের নির্দেশনা নির্বাচনের ব্যাপারে গ্রিন সিগন্যাল হিসেবে দেখছেন তিনি। তবে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, এটি কোনো গ্রিন সিগন্যাল নয়। নেত্রীর সাথে যিনিই দেখা করতে যান তাকেই জনগণের কাছাকাছি যাওয়ার নির্দেশ দেন তিনি (প্রধানমন্ত্রী)।
সিসিকের আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে কামরানের পাশাপাশি আসাদের নামও উচ্চারিত হচ্ছে।
জানা যায়, গত শনিবার আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেখা করেন সিসিকের সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান ও রাসিকের সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন।
এসময় এই দুই সাবেক মেয়রকেই জনগণের সাথে সংযোগ স্থাপন করা, জনগণের কাছাকাছি যাওয়ার নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাঁর ছোটবোনের মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিকীর উদাহরণ টেনে বলেন, ‘গত নির্বাচনের চেয়ে ভালো ফল পাওয়ার অন্যতম কারণ টিউলিপ ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গেছে। প্রত্যেকের সঙ্গে কথা বলেছে। তোমাদেরও এভাবে কাজ করতে হবে। তাহলে ফল পাওয়া যাবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘নির্বাচনে জেতার জন্য একমাত্র পথ হচ্ছে জনগণের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা। শুধু বড় বড় মিছিল-মিটিং করে কোনো লাভ হবে না। ফল পাওয়ার জন্য জনগণের কাছে যেতে হবে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনগণকে বোঝাতে হবে; উঠান বৈঠক করতে হবে। তবেই ফল পাওয়া যাবে।’
এ ব্যাপারে রোববার রাতে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, নেত্রী আমাকে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাওয়ার, তাদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন। নেত্রীর এই নির্দেশনাকে আমি আগামী নির্বাচনের জন্য গ্রিন সিগন্যাল হিসেবে মনে করছি। তাঁর নির্দেশনা মেনে আমি কাজও শুরু করেছি।
তবে কামরানের সাথে দ্বিমত পোষণ করে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ বলেন, নেত্রীর সাথে যিনিই দেখা করতে যান তাকেই জনগণের জন্য কাজ করতে তিনি নির্দেশ দেন। এটা উনার জন্য গ্রিন সিগন্যাল বা আমার জন্য রেড সিগন্যাল টাইপের কিছু নয়।
আসাদ বলেন, সিসিকের প্রার্থীর ব্যাপারে এখনো কোনো দলীয় সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রার্থী হওয়ার জন্য আমি আমার কাজ চালিয়ে যাবো এবং দলীয় মনোনয়ন চাইবো।

সূরায়ে ফাতিহা!

সূরা আল ফাতিহার বাংলা ও ইংরেজি অর্থ ইসলাম ডেস্ক: সূরা ফাতিহা (মক্কায় অবতীর্ণ), এর আয়াত সংখ্যা 7 ﺑِﺴْﻢِ ﺍﻟﻠّﻪِ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤـَﻦِ ﺍﻟﺮَّﺣِﻴﻢ...